টেক ইনফো

চট্টগ্রামে সড়কে ভোগান্তির ১০০ গজ পথ

নগরীর ২নং গেট এলাকা থেকে অক্সিজেন মোড় পর্যন্ত রাস্তাটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। অথচ এই সড়কের বায়েজিদ মাজার গেট থেকে ক্যান্টনমেন্ট গেট পর্যন্ত এলাকায় যান চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষদের। কারণ এই ১০০ গজ পথটির আকৃতি ‘বটল নেক’র মতো (বোতলের মুখের আকৃতি)। অর্থাৎ চওড়া রাস্তা হঠাৎ সরু হয়ে গেছে। রাস্তার ওপর বড় বড় কোম্পানির ট্রাক, বাস নিজেদের ইচ্ছে মতো পার্কিং করে রাখে। প্রাইভেট কার থামানো ও গণপরিবহন যাত্রী ওঠানামা করায় গাড়ি চলার পথ আরও সরু হয়ে যায়। পুলিশ বলছে, সমস্যা সমাধানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক) জানানো হয়েছে। যদিও চসিক এখনো প্রকল্প নিতে পরিকল্পনার মধ্যে আটকে আছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বায়েজিদ বোস্তামির মাজার গেট থেকে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট গেট পর্যন্ত ১০০ গজ রাস্তা প্রশস্ত করা হয়নি। সড়কের পশ্চিমে স্থায়ী দোকান রয়েছে। এ ছাড়া দুটি রেস্টুরেন্টও রয়েছে ওই ১০০ গজের মধ্যে। ক্রেতাদের পার্কিং করা গাড়িও থাকে সড়কের পাশে। অক্সিজেন থেকে ২নং গেট পর্যন্ত চলাচল করা টেম্পু সড়কে যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করাতে দেখা যায়।  

ট্রাফিক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অক্সিজেন থেকে বায়েজিদ হয়ে ষোলশহর ২নং গেট পর্যন্ত যাওয়া রাস্তাটি দিয়ে বিভিন্ন গণপরিবহন চলাচল করে। এ সড়কের মাঝখানে রয়েছে ডিভাইডার। উভয় পাশে ৩০ ফুট করে সড়কটি দুই অংশে ৬০ ফুট প্রশস্ত। তবে বায়েজিদ মাজার গেট থেকে ক্যান্টনমেন্ট গেট পর্যন্ত অক্সিজেনমুখী সড়কটি মাত্র ২০ ফুট চওড়া। বিপরীত পাশের সড়কে যানজট না হলেও অক্সিজেনমুখী পথে সবসময় যানজট লেগে থাকে। বিশেষ করে সকালে ও বিকেলে যানজট থাকে সবচেয়ে বেশি। 

স্থানীয়রা জানান, অক্সিজেন থেকে ষোলশহর ২নং গেট পর্যন্ত সড়কটি একাধিকবার সংস্কার করে প্রশস্ত করা হয়েছে। নানা সময় সড়কের পাশে জায়গা অধিগ্রহণ করে সড়ক বড় করা হয়েছিল। ওই সময় বায়েজিদ মাজার গেট ভাঙার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর ভাঙা হয়নি। পাশের মার্কেটও থেকে যায় অক্ষত। এতে সড়কের ওই অংশটি ‘বটল নেক’ আকৃতি ধারণ করে। 

এ বিষয়ে চসিকের প্রধান নির্বাহী শেখ মোহাম্মদ তৌহিদ বলেন, ‘বায়েজিদ এলাকার সড়কে বটল নেকের বিষয়টি আমাদের মাথায় রয়েছে। ওই স্থানের সড়ক প্রশস্ত করার প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। আগে সংস্কারের সময় কেন ওই স্থানটি রেখে দেওয়া হয়েছিল তা আমাদের জানা নেই।’ 

প্রতিদিন সকাল-দুপুর-বিকেল কিংবা সন্ধ্যা এই ১০০ গজের মধ্যে গাড়ি নিদিষ্ট গতিতে চালিয়ে যাওয়া যায় না। যানজট লেগে গেলে অবস্থা এমন হয় যে, হেঁটেও যাতায়াত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। একটি গাড়ির পেছনে আরেকটি গাড়ি লেগে থাকে। ওই পথ ব্যবহারকারীরা বলছেন, বায়েজিদ শিল্প নগরীর বিভিন্ন কারখানা ও পোশাক কারখানা সকাল ৮টায় খোলা হয়। আবার সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত খোলা হয়। এ সময়ে বটল নেকের কারণে একপর্ব যানজট লেগে যায়। আবার এসব প্রতিষ্ঠান ছুটির সময় একই অবস্থার সৃষ্টি হয়। 

ট্রাফিক পুলিশ বলছে, বটল নেক সম্পর্কে একাধিকবার সিটি করপোরেশনকে অবগত করা হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। চসিক চাইলে বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। অক্সিজেন পুলিশ বক্সের ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) আবুল কালাম বলেন, ‘ওই স্থানে সড়ক ছোট হওয়ায় পথচারীদেরও দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়তে হয়। হাঁটারও অবকাশও থাকে না। এসব নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।’ 

ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শামিম উদ্দিন বলেন, ‘মাজার গেট এলাকা থেকে যানজট লেগে যায়। একদিনও যানজট ছাড়া আসতে পারিনি। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের বিষয়টি নজরে এনে ব্যবস্থা গ্রহণ নেওয়া জরুরি।’ 

নিয়মিত এই পথে অফিসে যাতায়াতকারী, আমাদের উপ-সম্পাদক মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘এমনিতেই রাস্তাটা চওড়া কম, তার ওপর বিভিন্ন কোম্পানির বাস, ট্রাক সব সময় রাস্তার দু'পাশে পার্কিং করে থাকে। আবার টেম্পু ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাস্তার ওপর যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করায়। এ জন্য যানজট আরও বেশি লেগে যায়।’

সিএমপির উপকমিশনার (উত্তর ট্রাফিক) নেছার আহমেদ বলেন, ‘বটল নেকের বিষয়টি আমরা নিয়মিত চসিককে জানিয়ে থাকি। এরপরও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। চসিক ওই স্থানের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিলে সমস্যা নিরসন হয়ে যায়।’