শিরোনাম
দৈনিক অনুসন্ধান | ১০:১৭ পিএম, ২০২৪-০১-১৯
ফয়সাল আজম অপু, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দীর্ঘ আট মাস পর ববিতা নিজের বাবার বাড়ি ফিরলেন। বাড়ি থেকে একা গেলেও ফিরে এলেন স্বামীকে নিয়ে। ববিতার ফেরায় এলাকায় হইচই পড়ে যায়। শত শত নারী-পুরুষ তাদেরকে দেখার জন্য ভিড় জমান। কারণ, আট মাস আগে ববিতা খুন হয়েছেন বলে জানে সবাই। ববিতার বস্তাবন্দি লাশও উদ্ধার করে কবরস্থ করা হয়।তবে ‘মৃত’ ববিতা এখন কীভাবে স্বামীর সংসার করছেন! তবে বস্তাবন্দি লাশটি কার?
অন্যদিকে, ববিতাকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে আদালতের কাঠগড়ায় এখনও ধরনা দিচ্ছেন পার্শ্ববর্তী গ্রামের রুবেল হক (২৮) নামের এক যুবক।
বুধবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ববিতা তার স্বামী মাজেদ আলিকে সঙ্গে নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের খড়িয়াল গ্রামে বাবার বাড়িতে উপস্থিত হন।
এরপর বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়েই তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।আলোচিত ওই ববিতা খড়িয়াল গ্রামের রসুল আলির মেয়ে। তার স্বামীর নাম মাজেদ আলি। তিনি নওগাঁ জেলার মান্দা থানার পরইল কাঞ্চন গ্রামের মৃত আফসার আলির ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই বিকালে ৯৯৯ -এ ফোন পেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে পালসা গ্রামের লিলীখিলী মোড়ে বস্তাবন্দি একটি লাশ উদ্ধার করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই বদিউজ্জামান। ময়নাতদন্তের পর মামলা দায়ের করা হয়। আর মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কে বা কারা এক নারীকে ১৬ জুলাই হতে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দি করে ফেলে দেয়।
এদিকে লাশ প্রাপ্তির কয়েকদিন আগে ববিতা নিখোঁজ হয়েছেন বলে দাবি করে তার পরিবার এবং উদ্ধারকৃত লাশটি তার মেয়ে ববিতার বলে দাবি করেন রসুল আলী।
এ ঘটনার জন্য পাশের বিনোদপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ ক্যাপড়াটোলা গ্রামের এনামুল হকের ছেলে রুবেল হককে দায়ী করেন ববিতার বাবা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার এসআই আফজাল গত ৯ আগস্ট রুবেলকে গ্রেপ্তার করেন এবং জেলা কারাগারে পাঠান। তবে মামলাটি বিচারাধীন থাকলেও বর্তমানে রুবেল জামিনে মুক্ত আছেন।
অন্যদিকে, ববিতার বাবা গত ১১ জুলাই শিবগঞ্জ থানায় রুবেলের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করলেও সেটি ফাইলবন্দি পড়ে থাকে।
এদিকে প্রায় ৮ মাস পর বুধবার (১৭ জানয়ারী) সন্ধ্যায় ববিতার তার স্বামীসহ বাবার বাড়িতে উপস্থিত হলে প্রশ্ন ওঠে, নিহত বলে জানা নারী কীভাবে জীবিত ফিরলেন? কোথায় ছিলেন এতোদিন? আর অভিযুক্ত রুবেলের দোষ কি ?
এ বিষয়ে ববিতা বলেন, প্রায় আট মাস আগে রুবেল আমাকে ফোন করে ডেকে হাউস নগর গ্রামের মাথায় নিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও দুজন আমাকে নওগাঁয় নিয়ে যায় এবং তিনজনই আমাকে কোনো স্থানে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করেন। এরপর ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ফেলে পালিয়ে যায় তারা। আমি এর বিচার চাই।
অন্যদিকে ববিতার স্বামী মাজেদ আলি বলেন, এক বছর আগে আমার স্ত্রী আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় প্রায় সাড়ে চার মাস আগে মান্দা এলাকায় একটি অটোরিকশা গ্যারেজে পাওয়া ববিতাকে বিয়ে করি। বিয়ের সময় নিজে পিয়া খাতুন, বাড়ি কুড়িগ্রাম বলে পরিচয় দেয় ববিতা। দুজনে ঢাকায় গিয়ে আমরা একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করি। কয়েকদিন আগে ঠিকানা চাইলে সে কোনো ঠিকানা দিতে পারেনি। তবে সে হুমায়ুন রেজা উচ্চবিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছে বলে জানালে গুগলে সার্চ দিয়ে সেই ঠিকানা বের করে মনাকষায় এই বাড়ি আসি।
এ ব্যাপারে এলাকাবাসী জানায়, ববিতার মানসিক সমস্যা ছিল। তবে যে রুবেলকে দায়ী করা হচ্ছে তার বাড়ি গোমস্তাপুরের ক্যাপড়াটোলা বলে ববিতা জানিয়েছেন। অভিযুক্ত রুবেলের ঠিকানার সঙ্গে মিল নেই।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রুবেলের বাবা এনামুল হক দাবি করেন, সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে আমার ছেলেকে। যে হয়রানি করা হয়েছে রুবেলকে ও আদালতের কাঠগড়ায় নেওয়া হয়েছে এর বিচার চাই এবং দায়ীদের শাস্তি চাই।
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের পালসা গ্রাম থেকে উদ্ধারকৃত বস্তাবন্দি লাশের ব্যাপারে রুবেলকে সন্দেহজনকভাবে আটক করা হয়েছিল। আর রুবেল নির্দোষ হলে মামলা থেকে অব্যাহতি পাবেন। যেহেতু ববিতা ফিরে এসেছেন, তাই নতুন করে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ববিতাকে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দ্বিতীয় তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আ. হাই বলেন, ববিতার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। আর এ নিয়ে আমি কোনো কথা বলব না।
সদর মডেল থানার ওসি মিন্টু রহমান বলেন, রুবেল তাদের থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। ববিতার বাবার সন্দেহের কারণে এবং তাদের অনুরোধে সে সময় রুবেলকে আটক করা হয়েছিল। তাই মামলাটি আবার নতুন করে তদন্ত হবে। তদন্তের পর বলা যাবে রুবেল নির্দোষ কি না।
তিনি আরও বলেন, মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আফজাল হোসেন বদলির পর দ্বিতীয় তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আ. হাই মামলাটি তদন্ত করছেন।
অনুসন্ধান অনলাইন ডেস্ক : ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ উদ্বোধনের নামফলকে নিজের নাম দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সড়ক পরিবহন ও...বিস্তারিত
দৈনিক অনুসন্ধান : ইকরামুল হক, বিশেষ প্রতিনিধি: বর্তমান বৈশ্বিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপটে আদর্শিক শূন্যতা, নৈতিক অবক্ষয় ও ...বিস্তারিত
দৈনিক অনুসন্ধান : লামা-আলীকদম সড়কের লাইনঝিরি মোড়ে জায়গা জবর দখল চেষ্টা ব্যার্থ হয়ে, একজন বিজিবি সদস্যর বিরুদ্ধে ...বিস্তারিত
মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের নোয়াহাট এলাকায় শিপন (৩৫) নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে ক...বিস্তারিত
দৈনিক অনুসন্ধান : জাহিদ হাসান,লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি।।বান্দরবানের লামায় আন্তর্জাতিক সেবা মূলক সংস্থা এপেক্স ক...বিস্তারিত
দৈনিক অনুসন্ধান : মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মনিরামপুর উপজেলা শাখার কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৫...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 dailyonusondhan | Developed By Muktodhara Technology Limited